ওপেকভুক্ত দেশগুলোর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন হ্রাস পেয়েছে এপ্রিলে। যদিও এ সময় জোটভুক্ত দেশগুলো পণ্যটির উত্তোলন কমাবে বলে আগে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এক্ষেত্রে ভেনিজুয়েলার উত্তোলন ও রফতানি হ্রাসের মার্কিন প্রয়াস এবং লিবিয়ায় উত্তোলন আংশিক মাত্রায় কমে যাওয়া প্রধানতম ভূমিকা রেখেছে বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক জরিপে উঠে এসেছে।
জরিপের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে ওপেকভুক্ত দেশগুলো দৈনিক গড়ে ২ কোটি ৬৬ লাখ ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে, যা মার্চের তুলনায় দৈনিক গড়ে ৩০ হাজার ব্যারেল কম। যদিও ওপেকভুক্ত কিছু সদস্য দেশের উত্তোলন বেড়েছে। তবে তা ভেনিজুয়েলা, ইরাক ও লিবিয়ার উত্তোলন হ্রাসের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ হয়নি।
এপ্রিলে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় উত্তোলন হ্রাস দেখা গেছে ভেনিজুয়েলায়। যেখানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক তেল ও গ্যাস কোম্পানি শেভরন সংশ্লিষ্ট কিছু জ্বালানি তেলবাহী জাহাজ বন্দরে ফিরতে বাধ্য হয়।
নির্ধারিত কোটার তুলনায় বেশি জ্বালানি তেল উত্তোলনের জন্য ইরাককে বরাবরই চাপের মুখে পড়তে হয়। তবে এপ্রিলে দেশটিতে উত্তোলন কমেছে। এ সময় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) ও কুয়েত—এ উপসাগরীয় শীর্ষ উত্তোলনকারী দেশগুলোর উত্তোলনে তেমন পরিবর্তন আসেনি। যদিও এপ্রিলে ওপেক প্লাস তাদের নির্ধারিত কোটা কিছুটা বাড়িয়েছিল।
রয়টার্সের জরিপ ও ওপেকের মাধ্যমিক সূত্র অনুযায়ী, ইউএই ও ইরাক বর্তমানে তাদের নির্ধারিত কোটার কাছাকাছি উত্তোলন করছে। তবে ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সিসহ (আইইএ) কিছু সংস্থার মতে, তারা প্রকৃতপক্ষে কোটার তুলনায় উত্তোলন বাড়িয়েছে।
গত মাসে যেসব দেশ জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়িয়েছে, তাদের মধ্যে ইরান উল্লেখযোগ্য। ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইরানের উত্তোলন বৃদ্ধিই ছিল সবচেয়ে বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞাগুলোর পরও দেশগুলোর উত্তোলনে খুব বেশি প্রভাব পড়েনি বলে জরিপে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতি জানতে রয়টার্সের এ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এতে ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ এলএসইজি ফ্লো ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলারসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দেয়া তথ্য এবং জ্বালানি তেল কোম্পানি, ওপেক ও বিশ্লেষক সূত্র থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়।
এদিকে ওপেক ও রাশিয়াসহ অন্যান্য সহযোগী দেশ নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাস এপ্রিল থেকে সাম্প্রতিক উত্তোলন হ্রাসের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসছে। দেশগুলো মে ও জুনে উত্তোলন আরো দ্রুত বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। ওপেক প্লাসের ঘোষণা অনুযায়ী, বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের বাজারের মৌলিক চিত্র ভালো রয়েছে এবং মজুদ কম। এ কারণে আগামী মাসে উত্তোলন বাড়ানো হবে দৈনিক গড়ে ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল।
তবে এ উত্তোলন বৃদ্ধির মাত্রা নির্ভর করবে আংশিকভাবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেয়া ইরান ও ভেনিজুয়েলার সরবরাহ সীমিত করার উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয় তার ওপর।